Sunday, February 10, 2019

98

বৃষ্টি ভেজা রাত
সাথে স্বপ্ন অবাধ...
দেনা পাওনার মাঝে দাঁড়িয়ে
হচ্ছি কুপোকাত।

97

মনটা আজ উদাস শুধু
দিচ্ছে কত মন্ত্রনা,
মনের কোণে মন বাঁধিয়ে
পাচ্ছি কত যন্ত্রণা।
ওরে মন এবার তুই
চল না ফিরে সেই পথে,
বৃষ্টি ভেজা সকাল বেলায়
যে পথে কোনও ফুল ফোটে।

96

ঝুম বাদলার মিষ্টি সুরে
মন হারানো সুখ,
মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায়
কাঁপছে দুরু বুক।

95

সময়টা আজ বড্ড একা
বৃষ্টি হচ্ছে সারাদিন,
মেঘলা আকাশ ডাক দিয়ে বলে
তোমার কাছেই আমার ঋণ।

94

মাঝরাতে ঐ ভাবনাগুলো
একটু করে ছুঁয়ে যায়,
রাতপ্রহরী ঘুমের ঘোরে
কি যেন কি বলে যায়।

93

আমার এই
নষ্ট মনের নষ্ট কোণে,
নষ্ট কথা জমে।
তোমার ঐ চোখের তারায়
সুর খুজে পাই,
অমূল্য বিভ্রমে।

92

ঘুম ঘুম চোখে চেয়ে দেখি ঐ
খোলা জানালার কাঁচ,
অস্পষ্ট এই হাতের রেখায়
কতশত ভাঁজ।

91

রোদ- সকালে ঘুম ভেঙ্গে শুনি
কাঁকের কা কা ডাক,
মেজাজ হারিয়ে নিজেকে বলি
ঘুমেই পড়ে থাক।

90

সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি
মুঠোফোনটা হাতে নিয়ে
যেই উঠতে যাব
এমন সময় বৃষ্টি।
আকাশের মন ভাল নেই
ভাবছি আর ভাবছি
কি করব কি লিখব
এমন সময় বৃষ্টি।
সারাদিনের কিছু স্মৃতি
কিছু মনে থাকা, সাথে হাল্কা মাথা- ব্যাথা
যখন ঘুমাতে যাব
এমন সময় বৃষ্টি।
শহরের উষ্ণতম দিনে
পিচঢালা পথে চলতে চলতে ক্লান্ত যখন
আর পারি না, মন বলে চিৎকার করে
এমন সময় বৃষ্টি।

89

তোর মরণ খুলে
ধরন ছুঁয়ে,
কাঁদবো আমি সেই।
উচিৎ হবে
মুখের ওপর বলা,
"মাফ কর, আজ ভাংতি টাকা নেই।"

88

সময়
সে তো জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনের মত।
কখনও দমকা জ্বলে ওঠে, কখনও থমকে যায়।
সময়
সে তো পথ চলার ক্লান্তির মত।
কখনও দূর্বার অনুভূতি, কখনওবা ফিলিংলেস।
সময়
মাতাল মুখ নিঃসৃত গন্ধের মত।
বুঝিয়ে দেয় আমি আছি, আসলে আমি নেই।
কবিতার প্রতিটি লাইনের মত,
সময় বয়ে যায়।
লেখার সুযোগ কখনও থাকে,
কখনওবা থাকে না।

87

ঘুম ঘুম চোখে, জানালার ফাঁকে
তাকিয়ে থাকার ক্ষণ,
ঘুমের ঘোরে বৃষ্টি বিলাস
বৃষ্টি বিসর্জন।
হাই তুলে তুলে ক্লান্ত শরীর
বিছানায় ছুড়ে ফেলা,
রাতদুপুরে ঘুম আবার
সাতসকালে খেলা।

86

আমার ভাবনাগুলো ধূসর হয়ে আসে
তার নির্লিপ্ত পথচলায়,
আমার সাবধানতা থমকে দাঁড়ায়
তার "ডোন্ট কেয়ার" মনভাবনায়,
আমার ঘুমন্ত রাত্রি হারায়
তার নির্ঘুম চোখের পাতায়,
আমার বেঁচে থাকার আকুতি পাখা মেলে
তার সিগারেটের কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ায়।
এ আমার নিজের ও আমার আমিত্বের গল্প।
ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে থাকা,
রাতের ঢাকার কমলা রোদের আলোয় মিলিয়ে যাওয়া স্বপ্ন দেখা,
বৃষ্টি ভেজা মেঘলা দিনে স্টপেজে অনর্থক বসে থাকা,
ব্যস্ত শহরে পরিবহণে একটু জায়গা পাওয়ার যুদ্ধে সামিল হওয়া,
রিকশায় হুড তুলে থাকা কোন সুন্দরীকে দেখতে পাবার ব্যর্থ চেষ্টা করা,
অথবা
কবিতা নামের যা- তা লেখার সাহস দেখানো।
এ আমার নিজের ও আমার আমিত্বের গল্প।
ঠাস বুনটের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষ দেখার গল্প।

85

সুরবাহারি মনের কোণে
করছে খেলা আজ,
আলসেমিটা ঘিরে ধরে
নেই কাজ তো খৈ ভাঁজ।
নামের মাঝে সুর থাকে যার
সেই তো গাইবে গান,
শহর থেকে একটু দূরে
এই গানই আমার প্রাণ।

84

হৃদয়ের কথা শুনিতে ব্যাকুল
বলিতে নাহি পারে,
কাঙাল মনের বেদনাগুলো
কে তুলিবে ভাঁড়ে?

83

ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে
তাকিয়ে থাকা ক্ষণ,
ভাবছি ক'দিন সময় পেলে
ঘুরব সুন্দরবন।

82

আকাশের তারা খসার সময়
কিছু চাইলে
তা নাকি পূরণ হয়।
আমি যদি চাই
ফিরে আসুক
যা আমার নয়।
পাবো কি তা ফিরে?
নাকি সময়ের অন্তগগনে হারাবো ধীরে ধীরে?
একা একা।

81

ভগ্নহৃদয়ে শুন্য হাতে
বাড়ি ফিরি রাতে,
ভাবনা করার সময় কই হে
উঠতে হবে যে প্রাতে!
জীবনটা আজ একই রকম
কাটছে অন্তহীন,
খুব করে তাকে মনে পড়লে ভাবি
এইতো! রাত পোহালেই দিন!
এমনি করেই বুঝ দিয়ে যাই
নিজ নিজ অন্তরে,
কবে যে আবার হারিয়ে যাব
জানি না কোন মন্তরে।

80

হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
রাতের তিলোত্তমা ঢাকার ব্যস্ত পথে ছুটে চলা
রঙ- বেরঙের মানুষগুলোকে দেখতে।
হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
কিছুটা দ্রুত হেঁটে চলা কারও সাথে
তালে তাল মিলিয়ে পথ চলতে।
হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
হঠাৎ হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ভেসে যাওয়া
কোনও এক সুন্দরীকে এক দৃষ্টিতে দেখতে।
হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
চোখে চোখ পড়ে যাওয়ায়
অপরিচিতার মিষ্টি হাসিতে এক টুকরো সুখ খুজে পেতে।
হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
কপোত- কপোতীর
প্রবোধে ভরা কথা শুনতে।
হ্যাঁ, আমার ভাল লাগে
দিন শেষে একদম একা
কিছুটা সময় কাটাতে।
সত্যিই ভাল লাগে
আমাদের ভাললাগা গুলো এমনই।
শান্ত- সুনিবিড়।
অনেকটা তোমার হাতের রেখার মত।
মসৃণ কিন্তু বড্ড আঁকা- বাঁকা।
মনে হয় এখনি পৌঁছে যাব
মন ভাল করার দেশে,
কিন্তু পারি না।

79

মেঘলা সকাল মনটাকে আজ
দিচ্ছে মেঘে ঢেকে,
জলরঙে তাই ওই ক্যানভাসে
দিচ্ছি ছবি একে।

78

আমি ছুটে বেড়াই
তোমার মনের গলিতে,
আমি ভেসে বেড়াই
তোমার মনের নদীতে,
আমি উড়ে বেড়াই
তোমার মনের আকাশে,
আমি তোমাকে খুজে পাই
তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাসে।
ভাবছ আমি তোমায় ঘিরে আছি?
না মেয়ে, করছ ভুল।
তোমার মনের ঝুম বাগানে
কই? ফোটেনি তো আমার ফুল!
তবে লিখছি কেন এই কবিতা
তোমায় ভেবে ভেবে?
কারণ বেলা যে অনেক হয়ে এলো
তোমার আমার মেঘে!

77

আমি সময়টাকে বাঁধতে জানি
আমি নদীর পারে হাঁটতে জানি
আমি আকাশটাকে দেখতে জানি
আমি স্বপ্নটাকে অনুভব করতে জানি
আমি কাশফুলের গন্ধে ভরা পথে চলতে জানি
কেউ ভাবতে পারে, বাহ! আমি তো সবই জানি!!
নাহ! আমি মনের চোরাগলির অন্ধকারে,
আলো জ্বালতে জানি।
আমি কিংবদন্তীর সাথে বসে
অনন্তকাল গল্প করতে জানি।

76

মাঝে বিকেলে
ক্লান্ত শরীরে,
ঘরে ফিরে দেখি অন্ধকার।
গোধূলি বেলায়
কান পেতে শুনি,
সন্ধ্যাতারার হাহাকার।

75

আমার বিন্দু ঘিরে বৃত্তটাকে
একে দাও তুমি,
সময় গেলে রেখা মুছে যায়
জ্যামিতিক অনুভূমি।
জ্ঞান পরিধির বাইরে সেথা
মনভাবনার আঁচড়,
এ জীবনের সরল রেখায়
দুর্ভাবনার দোসর।
ঘুমিয়ে পড়ার আগে যখন
আঁকতে যাই ছবি,
খেয়াল থাকে না কি বার আজ
সোম কিংবা রবি।

74

আধখানা কথা সেই কখন থেকে ঘুরছে মাথায়
তবুও কবিতা আসে না।
ছেলেটাকে নিয়ে লিখব ভাবছি দুটো লাইন
অন্তরজালে নাকি কি সমস্যা, এই রাতে কোনও সমাধান নেই,
তবুও কবিতা আসে না।
এত পানি খাবার পরও গলা শুকিয়ে আসে
পানির স্বাদ এত ভাল লাগ,
তবুও কবিতা আসে না।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্য নিয়ে টাইসনের কথা শুনে যাই
নীরবে, অবাক বিস্ময়ে ভাবি কত ক্ষুদ্র আমরা!
তবুও কবিতা আসে না।
ক্লান্ত শরীরে আড্ডা দিতে এসে
অক্লান্ত আড্ডায় সময় পেরিয়ে যায়,
পথচলা মানুষ দেখে অকারণে কত হাসি- খুশি
তবুও কবিতা আসে না।
কমলা রোদে রাস্তা হারিয়ে,
ধুলোমাখা ধোঁয়ার রাজ্যে বসেও
কবিতা আসে না।

73

গভীর রাতের স্নিগ্ধতাতে
হারানো সব সুর,
চাঁদনী আলোয় মেঘের ফাঁকে
আমার স্বপ্ন হারায় দূর।
রাত্রিজাগা প্রতিটি ক্ষণে
মনকুড়ানো কথা,
তাহার সনে প্রেম যে আমার
প্রেম হারানোর ব্যথা।

72

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে
বাড়ি ফেরার পথে,
সময়গুলো খুব কেটে যায়
মানুষ দেখে দেখে।
হরেকরকম মানুষ
তাদের হরেকরকম কথা,
নিয়ন আলোয় রঙ বদলায়
শুধু স্বপ্ন ব্যথা।

71

রাত্রি জাগা ক্লান্তি নিয়ে
নেমে এলাম রাস্তায়,
চার তরুণের দৃষ্টি এখন
ছায়ানীড়ের নাস্তায়।
পরোটা চেয়ে পেলাম রুটি
মাঝখানে তার ফোলা,
ডাল ভাজির স্বাদ ভাল তবে
ডিমটা একটু ঢোলা!
নাকে- মুখে খাওয়া শেষে
বেরিয়ে এলাম পরে,
সিগারেটের ধোঁয়ার রেখায়
অতৃপ্তিরা ওড়ে।
চার তরুণের তিনটি দিকে
আবারো ছুটে চলা,
কবে না কবে দেখা হবে রে
যায় কি আর বলা?

70

শেষ বিকেলে ভগ্নহৃদয়ে
ছেলেটার ঘরে ফেরা,
ধূসর মেঘে ঢেকে থাকে
ওই দূর আকাশের তারা।
নীল চাঁদোয়ার নিচে দাঁড়ানো
ক্লান্ত শরীর মন,
ফাঁকা ফ্রেমে ছেলেটা দেখে
ধোঁয়াটে এ জীবন।

69

চাঁদের আলো গায়ে মেখে
ফিরছিলাম বাড়ি,
দমকা হাওয়ায় ভেসে আসা
স্মৃতির সাথে আড়ি।
অনুভূতির অপূর্ণতায়
ছেলেটা পথ হারা,
ওর স্বপ্নবাজ মনের আকাশে
লক্ষ কোটি তারা।

68

আমি দুনিয়া
কিন্তু তোর ভার বহন করতে রাজি নই।
আমি স্বপ্ন
কিন্তু তোর কাছে দেখা দিতে রাজি নই।
আমি সময়
কিন্তু তোর জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নই।
আমি সাফল্য
কিন্তু তোর কাছে ধরা দিতে রাজি নই।
আমি প্রেম
কিন্তু তোর জন্য আমি নই।
আমি ছায়া
কিন্তু তোর জন্য কোনও স্থান নেই।
আমি কামনা
কিন্তু তুই আর আমি? হাহ! ভাবিস কি করে!
কে তুই? লজ্জা করে না এটা ভাবতে!
আরে এ মুহূর্তে আছিস আবার এ মুহূর্তেই নেই।
জোছনা ভরা চাঁদকে ঢেকে দিয়ে
দুষ্টু মেঘেরা হারিয়ে ফেলে খেই।
আমি তো তুই, তোর ভেতরের আমি
যেদিন থাকব না সেদিন বুঝবি ছিলাম কত দামী!

67

মেঘলা সকাল
মনের আকাল
ভাল্লাগেনা আর।
একই রকম
জীবন যাপন
কেমন চমৎকার?

66

একলা চলার মজা অনেক
ভীষণ রকম ভাল,
একলা পথে সঙ্গী হলে
আধ- জোছনার আলো।

65

আপনি খুবই ভাল লোক
আপনার ঘামে ভেজা চেহারা দেখে
থমকে যায় চোখ।
আপনি অতিসাধারণ লোক
আপনার দ্রুত গতির হাটা দেখে
থমকে যায় চোখ।
আপনি ছাপোষা এক লোক
আপনার বাড়ি ফেরার আকুতি দেখে
থমকে যায় চোখ।
আপনি খুব হিসেবী লোক
টাকার প্রতি মায়া দেখে
থমকে যায় চোখ।
আপনি এমন কেন?
এমন ভাবটা করেন কিছু বোঝেন না যেন !
বাড়িঘর শুধু আপনারই আছে, আমার বুঝি নেই?
টাকা শুধু আপনিই কামান, আর আমার বুঝি সেই !
শুনুন সাহেব, এই শহরে বেঁচে থাকাই দায়
স্বপ্নে বাঁচি, স্বপ্নে মরি, স্বপ্নে চোখ শুকায়।

64

রাত বাড়ুক
স্বপ্ন জমুক
ওরা খুজুক
ওই কোণে ওরা...
দেখুক।
ওরা দেখুক
একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু
আরেকটা স্বপ্নের উন্মোচন।
ওরা ভাবুক
এটাই নিয়তি
এটাই বিধির বিধান।
আমি পিছিয়ে পড়লেও
ওরা এগিয়ে যাক
ওরাই জিতুক।

63

বৃষ্টির নোনাজলে
সম্পর্কের খেলা,
গাছের পাতার মুক্তো দানায়
চেনা অচেনার মেলা।
আকাশ ভাঙ্গা বর্ষায় খুজি
বৃষ্টি বৃষ্টি সূর,
ঝাপটা খেয়ে ভিজে দেখি
বৃষ্টি বহুদূর।

62

আমি বৃষ্টি দেখিনি,
তবে দেখেছি
কুয়াশার মাঝে ভিজে থাকা,
তোমার ওই দু'চোখের পাতার দেয়াল।
আমি কাব্য লিখিনি,
তবে লিখেছি
উত্তুরে হাওয়ায়,
তোমার ওই ঠাণ্ডা হৃদয় খেয়াল।

61

আমি ভালবাসাকে ভাগ করি দুটো ভাগে,
একটা উঁচুতলার, আরেকটা নিচুতলার।
উঁচুতলার ভালবাসা কামনামুখর,
নিচুতলার ভালবাসা যাতনামুখর,
তবে যে মুখরই হোক না কেন
ভালবাসা সবার।
সিনেমার সংলাপে তোমায় ভালবাসা বোঝাবো না,
রঙিন আলোর ঝলকানিতে খেতে বসে তোমার ভালবাসা চাইব না,
মন- শরীরের টানে তোমাকে খেয়ে ফেলব না।
বিলাসিতার জাহাজ তোমায় না দিতে পারি,
তোমার ভালবাসায় নিজেকে ছোটও করতে পারব না।
একবার তোমায় ছেড়ে যখন গিয়েছি,
বিশ্বাস করো তোমার কাছে আমি আর ফিরতে পারব না।

60

Simple Time, Simple Bit
Simple People Are Getting Some Weed
Simple Way, Simple Talk
Simple Doors Are Waiting For A Knock
Simple Hand, Simple Mouth
Simple Body Wants To Go To South
Simple Music, Simple Tune
Simple Disease Needs To Immune
Simple Face, Simple Beard
Simple Story Needs To Be Heard

59

দমকা হাওয়ায়, রাত্রি বেলায়
ঘুম তাড়ানোর ফাঁকে,
বিজয় দিনের গল্পগুলো
মনে পড়তে থাকে।

58

মৃদুমন্দ ঠাণ্ডা বাতাস
বইছে দখিন দ্বারে,
বোকা বাক্সে হচ্ছে যে গান
মিনারের "আহারে"।
শুভ্র পাতায় চেয়ে দেখি
তোমারই ওই মুখ,
ঘুমশহরে আলো ছায়ায়
মেঘেদের অসুখ।

57

চুপটি করে
ঘুমের ছলে
পদ্মপাতার গান,
যেন
ভালবাসার
গল্প ছায়ায়
একটুখানি মান।

56

আমার ঘুমভাঙ্গা সব রাত্রিগুলো
তোমার কথা বলে,
আর তোমার মনের ঘরে, আমার বসত
ঘুমের অবসরে।

55

আকাশ ভরা
জোছনা দেখে
চুপটি করে রই,
বসন্তেরই
মাতাল হাওয়ায়
ঘুম যে গেল কই?

54

হাবলঙ্গের বাজারে
কত রঙ যে আহারে, 
সান্ধ্যরাতে চা'র দোকানে
আড্ডা-পানির মাঝারে...

53

আমার রাত জাগার ফাঁকে, 
মনের সব গল্পগুলো চুপটি মেরে থাকে...

52

রাতের গল্প রাতেই থাকুক 
গভীর অন্ধকারে,
মনের কথা মনকে বলি
বদ্ধ চুপিসারে।

51

জানালার ফাঁকে তাকিয়ে দেখি
এক চিলতে আকাশ, 
ভর দুপুরে হাল্কা রোদে
হু হু দমকা বাতাস।

50

এই যে এখন 
অনেক গভীর রাত, 
দুষ্টু সবাই 
ঘুমে কুপোকাত।

49

সারাদিন দৌড়ের ওপর থেকে... 
হল না ফেসবুকে বসা, 
এই সন্ধ্যাবেলায় লিখতে গিয়ে দেখি
সালাদের প্লেটে কাটা আস্ত শশা।

48

আমি তোমার বৃষ্টি ছুঁয়ে যাই 
দমকা হাওয়ায়
ভেজা গাছের পাতায় 
আমি বৃষ্টিফোটার কাব্য লিখে যাই। 
আমি তোমার বৃষ্টি ছুঁয়ে যাই...

47

আমি যে এত ব্যস্ত কিসের
বুঝতে পারি না,
দিন শেষে রাত্রি আসে
ঘুমাতে পারি না।
ভাবতে বসে গিয়ে দেখি
সময় আছে কম,
আপাতত শুভ রাত্রি
একটু ফেলি দম।

46

এখন ছুটির রাত, আপনার কাঁধে আনন্দের নিঃশ্বাস... 
আপনি বেঁচে আছেন কাজের ভালবাসায়... 
সারা সপ্তাহের দৌড় শেষে, এবার একটু অবকাশ... 
রিলাক্সড হতে মনটা যে আপনার চায়...

45

জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি রাস্তায় কত জ্যাম... 
নিজে আছি আরামে, তাই দেই না কোন ড্যাম...

44

আমার আকাশ আঁকা তোমার বৃষ্টিতে, 
আমার ভালবাসা তোমার দৃষ্টিতে...

43

এই শহরে স্নিগ্ধ কোন রাতে,
একটা বাচ্চা ঘুমায় স্বপ্নময়তাতে।
হঠাৎ করেই কেঁপে ওঠে বাড়িঘর
ভূমিকম্প ! ভূমিকম্প !! 
সবাই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে
দিয়ে গায়ের ওপর ভর...
বাসার গেটে ঝুলছে বড় তালা
এই দারোয়ান কই? এ এক মহাজ্বালা
কাঁপছে বাড়ি, কাঁপছে সবার মন
ধুর ব্যাটা বাড়ীওয়ালা
তোর কারণে এবার মরবে মানুষজন... !!
দরজা খুলে যেই না বাইরে পা
অমনি দেখে আকাশছোঁয়া অন্ধকারের গা,
ভয় পেয়ে যেই আতকে ওঠে বুক
করার কিছুই নেই, এ যে আমাদেরই অসুখ...
এক চিলতে আকাশ দেখা বারণ
তাই বাড়ির গায়ে বাড়ি দাঁড়িয়ে
দিচ্ছে এবার নাড়ন... !
বাচ্চা এবার জড়ায় বাবার হাতে
ভীত স্বরে বলে বাবা?
ঘুম কি আসে না ভূমিকম্পের রাতে?
অবোধ শিশুকে বাবা জড়ান স্নেহে
আলতো করে আদর করেন সন্তানপ্রতি প্রেমে...
ঘুম ভেঙ্গে যায় হঠাৎ করে আজ,
দিনের আলো ফুটে ওঠে ফেলে আঁধার সাঝ।
এই শহরে স্নিগ্ধ কোন রাতে,
একটা বাচ্চা ঘুমায় স্বপ্নময়তাতে।

42

রাত্রিকাল অন্ধকারে 
বৃষ্টিভেজা শহর, 
মনের গভীর গল্পতে আজ 
ঘুমের অবসর।

41

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
রাতের শহরে, 
চুপটি করে হারায় সে আজ
দূরে, বহুদূরে...

40

জানালার ধারে বসে দেখি আজ আকাশ ভরা মেঘ, 
ধূসর রঙের ফোঁটায় ফোঁটায় সুতীব্র আবেগ...

39

ঘুম ভাল হোক রাত্রি বেলায় 
স্বপ্ন আসুক ঘোরে, 
আবার না হয় কথা হবে 
নতুন আলোর ভোরে।

38

বৃষ্টিভেজা সবুজ পাতায় 
বৃষ্টি ফোটার দাগ, 
আমার মনের যত কথা 
মনেই পড়ে থাক।

37

স্বচ্ছ বিকেল... 
কনফারেন্স টেবিল... 
তিন জনের আড্ডা... 
ধুমায়িত কফির কাপ... 
চিন্তামগ্ন একজন, বাকিরা ফেসবুকে... 
কাব্যিক ভাবনা...
এই আসে, এই আসে না...
ঘূর্ণায়মান চেয়ার...
আপনি, আমি, আমরা...

36

পশ্চিমের দিকে একটা টেবিল... 
একটা ল্যাপটপ... 
আমি, অন্যপাশে আপনি... 
হালকা মিঠে রোদ... 
ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাদের... 
সাথে তাহসানের কাল্পনিক প্রেম...
জীবনটা সুন্দর, তাই না?
কফি অথবা চা?

35

এই সকালে কাকের ডাক, 
থাক ওটা পড়েই থাক... 
বাসার পাশেই রাস্তার বাঁক, 
থাক ওটা পড়েই থাক... 
আম্মু দিচ্ছে নাস্তা খাওয়ার হাঁক, 
থাক ওটা পড়েই থাক...
হঠাৎ কেন যে চুলকাচ্ছে নাক,
থাক ওটা পড়েই থাক...

34

দাঁড়িয়ে আছি হাতিরঝিলের ব্রিজে,
একটি গাড়িও দেখিতে পাই না ক্রিজে...
ব্যর্থ মনে হেঁটেই রওনা হই,
রাস্তা তো নয়, যেন কোন এক শুইয়ে রাখা মই...
একা নই আমি, পাশে হাঁটছে ছিপছিপে এক মেয়ে, 
কখনো আমি, কখনোবা সে আড়চোখে থাকি চেয়ে...
কে জোরে হাঁটে? সে না আমি? কম্পিটিশন চলে,
ধুর ছাই ! কি করছি এসব !! মনে মনে কে যেন বলে...
হাহ ! আর একটু বেশি রাস্তা হলে খুব কি খারাপ হত?
এই চলতি পথে ঘুরে ফিরে দেখতাম অবিরত...

33

বাসা থেকে অফিস দূর কি...
দু'টো হাস আর একটি মুরগী, 
রাস্তায় রাস্তায় আর কি দূর
দু'টো কাক আর একটি ময়ূর...

32

বসন্তের স্বচ্ছ নীল আকাশ অথবা, 
গভীর রাতে ঘুমন্ত শহরের পূবাল বাতাস... 
হেডফোনে পছন্দের গান অথবা, 
হঠাৎ করে পাওয়া দুটি তারার আলোয় ম্লান... 
ফেসবুকের সার্চে আইডি খোঁজার চেষ্টা অথবা, 
দমবন্ধ অনুভূতির দেয়ালে মাথা কুটে মরার তেষ্টা...
পুরনো ছবিতে নতুন করে ফিরে পাবার মন অথবা,
শেষবার বলা কথার প্রতিটি শব্দ ভেবে পেরিয়ে যাওয়া ক্ষণ...

31

গ্রীষ্মের রাতের ঘন কালো আকাশ।
সাদা পেজা তুলোর মত মেঘ...
উড়ে বেড়ায়, ঠিকানাহীন।
দমকা বাতাসে নিভু নিভু সিগারেটের আগুন, 
আঁশটে ধোঁয়ার দেয়ালের আড়ালে
নিজেকে ঢেকে রাখার চেষ্টা...
ব্যস্ত রাজধানীর এ এক অন্য রূপ।
জোনাকির মত জ্বলছে আলো,
সাঁই সাঁই করে ছুটে বেড়াচ্ছে গাড়ি,
ফাঁকা রাস্তাঘাট।
বহুতল ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে
এসব দেখতে বেশ ভালই লাগে।

30

শত দুশ্চিন্তায় রিক্ত মস্তিষ্ক
একঘেয়ে কাজের সেই একই চিন্তা,
আর বৃষ্টিস্নাত রাতে
জানালার ওপারে জমাট অন্ধকার।
কীবোর্ডে থমকে থাকা আঙ্গুল
অথবা মনিটরে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা,
বুকভরা দীর্ঘশ্বাস
এবং ক্লান্ত শরীরে নিদ্রার আগমন।

29

- এটা কি ওর বাসা?
- জি না, আপনি ভুল করছেন
উনার ঠিকানা বদলে গেছে।
- বলেন কি !! মাত্র তো কয়েক বছর
এইতো সেই পুরনো গেট, পুরনো বাড়ি
কত পরিচিত, কত স্মৃতি !!
আর আপনি বলছেন...
- জি না স্যার, উনি এখন আর এখানে থাকেন না
উনার ঠিকানা বদলে গেছে।
- ঠিকানা বদলে গেছে?
ওভারব্রিজটার নিচ দিয়ে সরু হয়ে বয়ে যাওয়া সেই রাস্তা
ব্যস্ত সড়কের মুখের সেই ফার্নিচারের দোকান
ওর পিছু নিয়ে হাঁটতে গিয়ে চকিত ফিরে চাওয়া
স্বপ্নালু দুই চোখের তারায় মিষ্টি শাসন
আর তামাটে চোখের রঙে নিজেকে হারানো...
এই সবই বদলে গেছে?
ঠিকানা বদলে গেলে কি মানুষও বদলে যায়?
নাকি ঠিকানার বদল হয় মানুষের অবহেলায়?

28

ছাদ থেকে আকাশ ধরাটা সহজ, তাই না?
একদম হাতের নাগালে পাওয়া যায়।
সাদা মেঘের দল চোখ রাঙ্গিয়ে তাকালে -
আমি ভয় পেয়ে দূরত্ব বজায় রাখি।
আর গভীর রাতে শান্ত হয়ে আসা ব্যস্ত শহরের রাস্তা ধরে -
তুমুল গতিতে ছুটে যাওয়া গাড়ির শব্দে সম্বিত ফিরে আসে...
তামাটে চোখের তারায় যেন অদ্ভুত এক বিদ্রূপ,
নিজেকে খোলসের আবরণে বন্দী করে ফেলার মত...
জ্বলন্ত সিগারেট একসময় হাতের ফাঁকে পুড়ে শেষ হয়,
তার নেশা কেটে যায়...
কিন্তু "তুমি" নামক নেশাটা এত বছর পরও কাটেনি।

27

সাগরের তীর হোক অথবা
টিউলিপের রঙিন মাঠ,
গভীর সমুদ্রের বুকে কোন জাহাজ হোক অথবা
মরুভূমিতে হারানো কোন শহর
ব্যস্ত কোন সড়ক হোক অথবা 
বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট,
সিগারেটের ধোঁয়ায় হোক অথবা
গরম কফির কাপ...
মোবাইলের স্ক্রিন জুড়ে তোমার ছবি দেখার অভ্যাসটা আজও রয়ে গেছে।

26

বরফকুচি হাতে,
ফেসবুকের স্ক্রল টানি
একাকী গভীর রাতে।
টেবিলে রাখা গ্লাস, 
মদির আহ্বানের আড়ালে
ধোঁয়াটে দীর্ঘশ্বাস।

25

ভিনদেশী গিটার 
আর গানের সূত্রধর, 
মনের কথা মনেই রবে 
রাত্রি পরম্পর।

24

গাছের পাতার ফাঁকে,
জ্যোৎস্না চাঁদের অবোধ আলোয়
মন লুকিয়ে থাকে।
আঁধার ঘেরা পথ, 
ধূম্রকাঠির ভুস আগুনে
অব্যক্ত জীবনবোধ।

23

হঠাৎ জমাট ঠাণ্ডা, 
ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ, 
ফেসবুকের অলস নিউজফিড
একটু স্ক্রল... 
কোন কিছুতে চোখ, 
ঝাপসা হয়ে আসা স্মৃতি।
গলার কাছে গুমোট অনুভূতি,
হেডফোনের ওপারে জন মেয়ার
Slow dancing in a burning room !!

22

রাত একসময় শেষ হয়ে আসবে 
কুয়াশা ঘেরা ভোর উঁকি দেবে জানালার ফাঁকে। 
চোখের ওপর রোদের আলতো ছোঁয়ায় ভ্রু কোঁচকাবে... 
অথচ ঘুমই হয়নি। 
যেন কতকাল নির্ঘুম... 
শরীর একটু ম্যাজ ম্যাজ করবে।
অনেকটা জ্বর আসার মত,
কিন্তু না... জ্বর আসবে না।
সময়ের ডায়রির পাতায় একই কথা লেখা থাকে বারবার।
বদলে যায় শুধু তারিখগুলো।
আর চরিত্র?
সে কথা নাহয় থাকুক আজ...

21

ওই রাস্তাটা এখনও কি আগের মতই আছে?
মার্কেটের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে একটু ঘুরে যাওয়ার জন্য আমাদের সে কি প্রাণান্তকর চেষ্টা... মনে পড়ে?
ওই ফুচকার দোকানটা কি এখনও আছে?
একটু বেশি ঝাল দেয়া ফুচকা খেতে সমস্যা হত বলে ফুচকাওয়ালা মামার সাথে থেকে তদারকি করতে হত... মনে পড়ে?
৩৬ নাম্বার বাসটা কি এখনও আগের রুট ধরেই যাওয়া আসা করে?
রোদ যাতে না পড়ে সে জন্য লম্বা লাইনে আমিও পাশে থাকতাম ছায়া হয়ে... মনে পড়ে?
লেকের পাড়ে সেই বেঞ্চটা কি এখনও আগের মতই আছে?
ক্লাস শেষ করে সেখানটায় বসে কেটে যেত ঘণ্টার পর ঘণ্টা... মনে পড়ে?
ওই ফুটপাতটা কি এখনও আগের মতই আছে?
ঝুম বৃষ্টিতে ফুটপাত ধরে হাটতে হাটতে নিজের ভিজে যাওয়াটা... মনে পড়ে?
গভীর রাতগুলো কি এখনও আগের মত আছে?
জাস্ট একবার গুড নাইট উইশ শুনতে টিএন্ডটিতে আবারো কল... মনে পড়ে?
আমার কিন্তু সব মনে আছে...
এখনও...

20

বসন্তের দমকা বাতাস... 
কিছু ডানায় মিষ্টি ফুল, 
এলইডি বাতির তীব্র আলোয় ভ্রূ কুঁচকে
আদিম আহ্বান... 
প্রিয় পুতুলের নিজেকে ফিরে পাওয়া...

19

রাত্রি জাগা এই শহরে
আত্মসমর্পণ, 
আমার মনের বারান্দাতে 
বৃষ্টি নিমন্ত্রণ।

18

বৃষ্টি ধোয়া এই সকালে 
তন্দ্রাঘোরের ডাক, 
মনের সকল লেনা দেনা 
চুপটি করে থাক।

17

দমকা হাওয়ায় সাঝ বেলাতে
বৃষ্টি ফোটার গান, 
মনের বাড়ির জানালা খোলা
ভালোবাসার বান।

16

পথ হারানো পথের বাঁকে
সন্ধ্যা নামে
ছয়টা বিশে।
ঘামে ভেজা ক্লান্ত শরীর
বাসের ভীড়ে
হারায় দিশে।

15

চুপ করে থাকা এই শহরে
কবিতার লাইনে একাকার হব, 
মেঘের ছায়ায় আকাশে ভেসে আসা
সন্ধ্যার সোডিয়াম বাতির কারণ হব, 
জানালা ঘিরে থাকা বিষণ্ণ গাছের পাতায় 
জমে থাকা বৃষ্টির পানি হব,
ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎ দেখায়
তোমার ভাবনার একমাত্র সত্য হব...

14

তোমার হাতের পাতার ওপর
বৃষ্টি ফোঁটার গান, 
মেঘের চমক, দমকা হাওয়া
একটু অভিমান।

13

অগোছালো মনের কোণে
সোডিয়াম বাতির গান, 
সাদা কালো আঁধার রাতের 
ঝুম জোছনা স্নান।

12

পূবাল বাতাসে বন্ধু, পূবাল বাতাসে এ এ...
আমার মনের ভালোবাসা
ভাইসা ভাইসা আসে।
মন হইল জড়সড় 
বন্ধু গেল কই রে আমার
বন্ধু গেল কই...
বাড়ির পাশে আরশীনগর
তাহার পন্থে চাইয়া রই রে আমি
পন্থে চাইয়া রই...

11

sky is cloudy, dark and blue
city has too many lights, without any clue
sittin' in a balcony, smoke on air
wish to see your eyes.. plain..dare

10

জানালার ফাঁকে দেখা 
গোধূলি বেলার, 
লালরঙা সূর্যের আড়ালে... 
মনের ক্যানভাসে আঁকা 
তোমার ছবি, 
ফ্রেমে বাঁধা থাকে কোন দেয়ালে...
ব্যস্ত এ সময় ছেড়ে
পিচঢালা পথে,
একাকী হেটে যাওয়া রোদে...
অনেক কিছু ভাবতে গিয়ে
থমকে যাওয়া ঠোঁটে
চোখের ভাষায় কথা বলে...

9

আমার যত দুঃখবোধের কথা
তোমার মনে বৃষ্টিফোঁটায় ঝরে, 
এই শহরে সূর্য ওঠার খেলায়,
হারাই আমি তোমার মনের 
অতল গহ্বরে।

8

ফাল্গুন মাসের দমকা হাওয়ায়, 
না হয় উড়ে যাক শহরের নতুন এই গান... 
সোডিয়াম বাতির রহস্যে ঘেরা রাস্তাগুলো, 
না হয় আজ একটু দিক ভুল করুক... 
আধপোড়া সিগারেটের মায়ায়, 
না হয় আজ ফিরে না তাকাক নিঃসঙ্গ তরুণ...
অদ্ভুতুড়ে দ্বিধার দেয়ালগুলো আজ,
না হয় জোছনার ওপারে থাকুক...
না লেখা গল্পের লাইনগুলো এখন,
না হয় অর্ধসমাপ্তই থেকে যাক...

7

অনুভূতির দেয়ালগুলো,
আজ শুন্য পড়ে আছে...
কালের পরিক্রমায়
তাতে এখন ধুলোবালির মিছিল।
দ্বিধার দেয়ালে
মানবিক অন্ধকারের আঁচড়,
তাতে কার যেন পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়...
নিঃসীম, নিরাকার... আর একটু শিথিল।
কখনও আমি বড় ক্লান্ত,
কখনওবা অভিনয় করে করে থেমে যাই।
কখনও আমি বড় স্তব্ধ,
আবার কখনও বেঁধে রাখি আমার অস্তিত্বের লড়াই।

6

শহরে নতুন গানের পুরনো লাইন না হয় না লেখাই থাকুক, 
হাজার বছরের পুরনো রাত নেমে আসুক বসন্তের বাতাস সঙ্গী করে।
কড়া কফির কাপে আলতো হাতের ছোঁয়া পড়ুক,
পরিচিত কোন গানের সুরে হৃদয়ে কাঁপন ধরুক। 
খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে আসুক আদি অকৃত্রিম সত্ত্বা! 
চোখজুড়ে নামুক ঘুম!
শুধু ঘুম আর ঘুম!

5

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে 
মন বাড়িয়ে ছুঁই, 
মনের ভেতর নোনা আকাশ
বৃষ্টি গেল কই? 
শহরজুড়ে প্রাণোচ্ছলে 
একলা বসে রই,
হাতের কড়ায় সময় গুনি
সে তো আমি নই!

4

কালো মেঘের অন্ধকারে 
সূর্য পড়ে ঢাকা, 
দীর্ঘশ্বাসের ছোঁয়ায় থাকে 
মনের জমিন ফাঁকা। 
চৈত্র মাসের ভরদুপুরে 
হাল্কা সুরের গান,
বৃষ্টি আসে? আসুক তবে...
হোক না অভিমান!
মনটা না হয় বসিয়ে দেব
মুড়িমুড়কির ছলে,
জলের গ্লাস ধরার কেতায়
একটু দেব ছুঁয়ে!

3

মেঘলা আকাশ 
মেঘে ঢাকা, 
মেঘে মেঘে রঙ; 
ছুটির দুপুর 
আলসেমিতে
অবোধ কোন ঢং!

2

আবার যখন দেখা হবে
ছোট্ট করে হাতটা নেড়ো
জল তরঙ্গে ভাসতে শেখা
অবোধ কথা ভুলে যেয়ো।
আবার যখন দেখা হবে
শুধু একটু মুচকি হেসো
পথের ধারে অপেক্ষাতে
চুপটি করে ঘাড় নাড়িয়ো।
আবার যখন দেখা হবে
চোখের পাতায় দৃষ্টি দিয়ো
অসম্ভবের রোদ আকাশে
না হয় আমার বৃষ্টি হয়ও।
আবার যখন দেখা হবে
পাশাপাশি হেটে যেয়ো
চায়ের কাপের ধোঁয়াটে সময়
আমায় না হয় হারিয়ে দিয়ো।

1

শহরটা আজকাল পালাতে বলে, 
অতীত কিংবা ভবিষ্যতের আয়নাতে
শীতের দখিনা ঠাণ্ডা বাতাসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় সে। 
ধোঁয়া ওঠা গরম কফির কাপ, 
অথবা সুউচ্চ অট্টালিকার খোলা কোন এক বিশাল জানালায়। 
মেঘে ঢাকা দিনের ভেতর কোথায় যেন মাঘ মাসের নিঃসঙ্গতা! 
কখনও কম, কখনওবা বেশি। 
শহর জুড়ে আজ তাই গল্প লেখার ধুম, 
ক্লান্তি ছাড়া রাত্রিগুলো দেয় না এনে ঘুম...
একটুখানি ঘুম।